পাবনায় ফের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ: দোকানে আগুন, ঝোপ থেকে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

26 Sep 2026, 22:28 · মোঃ মনিরুজ্জামান — Staff Reporter

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম (৫০) নামে এক চা দোকানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্তের চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং তার বসতঘরে ভাঙচুর চালান।​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর বাজারে সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাদুল্লাপুর কারিগর পাড়ার একটি ঝোপের ভেতর থেকে অভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছে।​অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়ার মৃত আলমের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে শিশুটি সাদুল্লাপুর বাজারে সাইফুল ইসলামের চায়ের দোকানে যায়। একপর্যায়ে সাইফুল শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটির এক স্বজন ও স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে ফেললে অভিযুক্ত সাইফুল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।​ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে সাইফুলের চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পরে তার টিনের বসতঘরেও ভাঙচুর চালান।​সংবাদ পেয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে আতাইকুলা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাদুল্লাপুর কারিগর পাড়ার একটি ঝোপে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।​আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।​পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।​উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনা সদরের দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষোভ কাটতে না কাটতেই নতুন করে একই ধরনের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।